• শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ০৩:৩৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
আসছে সামনে ঈদুল আযহা উপলক্ষে কোরবানির গরুর হাট কাপ্তাই থানা পুলিশ এর অভিযানে চট্টগ্রামের বাকলিয়া হতে পলাতক আসামি গ্রেফতার সিন্দুকছড়ি সেনা জোনের পক্ষ থেকে ঈদ উপহার ও মানবিক সহায়তা প্রদান ঈদুল আযহা উপলক্ষে কাপ্তাই জোনের ত্রাণ সামগ্রী সহায়তা প্রদান  মাটিরাঙায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন ইউএনও আলীকদম সেনা জোন (৩১ বীর) কর্তৃক ২,৬৬,৬০৫ টাকা আর্থিক অনুদান প্রদান নিজের কণ্ঠস্বর বিক্রি করে সফলতা অর্জন রামগড়ে বাগান শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার রামগড় কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের জঙ্গলে পড়েছিল শ্রমিকের মরদেহ কাপ্তাইয়ে পাহাড় ধ্বসের  আজ ৭ বছর : এখনোও ঝুঁকিতে বসবাস করছে বহু মানুষ রাজধানীর পল্টনে বহুতল ভবনে আগুন চট্রগ্রামে শপথ নিলেন রাজস্থলী উপজেলার চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানরা

সংঘাতের দিকে যাচ্ছে রাজনীতি!

মাসুদ রানা, স্টাফ রিপোর্টার / ২১৪ জন পড়েছেন
প্রকাশিত : রবিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৩

চলতি বছরের শেষে অথবা ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নভেম্বরের মধ্যে হতে পারে তফসিল ঘোষণা। এমন অবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলো তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি দিয়েছে আসছে। দেশের অন্যতম বৃহত্তর রাজনৈতিক দল বিএনপি ও তার সহযোগীদের আন্দোলন সরকারের পদত্যাগ ও তত্ত্বাবধায়ক চেয়ে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তাদের অধীনেই নির্বাচন করতে অনড়। এ নিয়ে দু’দলের পাল্টাপাল্টি অবস্থান থেকে হঠাৎ করেই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে গেছে। দু’পক্ষই একেবারে মুখোমুখি অবস্থানে।

রাজধানীর প্রবেশমুখগুলোতে পূর্বঘোষণা অনুযায়ী শনিবার (২৯ জুলাই) বিএনপির অবস্থান কর্মসূচি ছিল। একইদিনে আওয়ামী লীগও একই কর্মসূচি ঘোষণা করে। দুই পক্ষের এমন অবস্থান ও জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে রাতেই কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি)। কিন্তু কর্মসূচি করার বিষয়ে অনড় থাকে বিএনপি। এ অবস্থায় সকাল থেকেই বিএনপির ঘোষণা করা অবস্থান কর্মসূচির এলাকায় জলকামান, সাঁজোয়া যান নিয়ে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নেয়। সতর্ক পাহারায় থাকে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগও।

কিন্তু নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই রাজধানীর প্রবেশমুখগুলোতে অবস্থান কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করে বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ সময় অন্তত পাঁচটি জায়গায় বিএনপির সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। মূলত পুলিশ তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে চাইলে এ সংঘর্ষ বাধে। বিশেষ করে, রাজধানীর ধোলাইপাড় ও মাতুয়াইল এলাকায় দলটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। সতর্ক পাহারার নামে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরাও লাঠিসোঁটা নিয়ে কোনো কোনো জায়গায় সংঘর্ষে জড়িয়েছে। এ সময় ভাঙচুর করা করা হয় বেশ কয়েকটি যানবাহন। আগুন দেওয়া হয় কয়েকটি গাড়িতে। বিএনপির সিনিয়র দুই নেতাসহ অনেকেই আহত হয়েছেন।

আওয়ামী লীগের নেতাদের অভিযোগ, বিএনপি পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে এবং আগের সহিংস অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে। কোনোভাবেই তাদেরকে এমন সহিংস কর্মকাণ্ড করতে দেওয়া হবে না। অন্যদিকে বিএনপির দাবি, তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ পরিকল্পিতভাবে ওপর হামলা চালিয়েছে। বিএনপি কখনই সহিংস রাজনীতি চায় না। যত বাধা আসুক দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা মাঠেই থাকব।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ঢাকার প্রবেশমুখগুলোতে অবস্থান নিয়ে বিএনপি রাজধানীকে সারাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা করেছিল। তারা বাস ও পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে। সংঘাতের জন্য বিএনপির নেতাকর্মীদেরই দায়ী।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, আমরা যা আশঙ্কা করেছি, তাই সত্যি হয়েছে। অগ্নিসন্ত্রাস তারাই চেয়েছিল এবং করেছে। তারা মোট সাতটি বাসে অগ্নিসংযোগ ও হামলা করেছে। কয়েকজন পুলিশকে বেধড়ক পিটিয়েছে।

দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, বিএনপি ২০১৩-১৪ সালের দিকেই হাঁটছে। তাদের সেই পুরোনো রূপই দেখা যাচ্ছে। তাদের ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমাদেরও কর্মসূচি থাকবে, আমরা আক্রমণ করতে যাব না। কিন্তু গায়ে পড়ে আসলে তো ছাড় দেব না।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপির অপরাজনীতি ঠেকাতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নির্বাচন পর্যন্ত মাঠে থাকবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের প্রতিহত করবে।

এদিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ বিনা উসকানিতে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে। বিএনপি সহিংস রাজনীতি চায় না। হেনস্তা ও আটক করে বিএনপির নেতাদের কাছে খাবার ও ফুল পাঠানো সরকারের নাটক।

দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, পুলিশের প্রটেকশনে আগুন সন্ত্রাস করছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা‌। পুলিশ বৃষ্টির মতো গুলিবর্ষণ এবং বেধড়ক লাঠিচার্জ করেছে। অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ৫০০ জন নেতাকর্মী আহত ও ১২৪ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এমন বাস্তবতায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন, নির্বাচনের আগে দেশজুড়ে ব্যাপক সংঘাত হতে পারে। মূলত, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া বিএনপি নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষণাও দিয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচন অনুষ্ঠানে বাধা দিলে তা প্রতিহত করা হবে বলে জানিয়েছে আওয়ামী লীগ। দেশের প্রধান দুই বড় দলের বিপরীতমুখী এমন কঠোর অবস্থান সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

তারা আরও বলেন, দুই পক্ষকেই আলোচনার মাধ্যমে সমাধান বের করা উচিত। যদি তা না হয় তাহলে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা ধরনের শঙ্কা কাজ করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ