• বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ১২:৪৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উদযাপনে মানিকছড়িতে আলোচনা সভা রাজস্থলীতে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালিত কাপ্তাইয়ে “সর্বজনীন পেনশন স্কিম” সম্প্রর্কিত উদ্বুদ্ধকরণ সভা অনুষ্ঠিত মাটিরাঙ্গায় ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালিত সর্বজনীন পেনশন কার্যক্রম সরকারেরর যুগান্তকারী উদ্যোগ- ইউএনও ডেজী চক্রবর্তী ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে কাপ্তাইয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত দেশের মানুষের সুরক্ষায় সার্বজনীন পেনশন স্কিম চালু করেছে সরকার….নাজমুন আরা সুলতানা লামায় চাম্পাতলী বৌদ্ধ বিহারের চেরাং ঘর আগুনে পুড়ে গেছে রামগড়ে হত্যা মামলা আসামি ২৩ বছর পর গ্রেফতার মহেশখালী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ১৫ জনের মনোনয়ন পত্র দাখিল

ভাঙ্গা ঘরে ভোগান্তিতে কুড়িগ্রামের আফছার আলী

আনিসুর রহমান, রাজারহাট প্রতিনিধি: / ১৭৪ জন পড়েছেন
প্রকাশিত : শনিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২২

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নে ভাঙ্গা ঘরে স্ত্রীকে নিয়ে চরম ভোগান্তিতে বসবাস করছেন আফছার আলী নামের ৭৩ বছরের এক বৃদ্ধ। তিনি ওই ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের বোয়ালভীড় গ্রামের বাসিন্দা মৃত আছান আলীর পুত্র।

সরেজমিনে দেখা গেছে , আফছার তার স্ত্রী আছিয়া বেগমকে (৬০) সাথে নিয়ে তাদের বসতঘরের ভাঙ্গা বেড়া পলিথিন,ছেঁড়া কাপড় দিয়ে ঢেকে দিচ্ছেন। তাদের বসতঘরের বর্তমান অবস্থা জরাজীর্ণ দেখে মনে হয় মৃত্যু ফাঁদ। মরিচা ধরে ঝরঝরে হয়ে গেছে গোটা ঘরের চালের টিন। মরিচ ধরা টিনে তৈরি হয়েছে হাজারো ফুটো। আর তাতেই সামান্য বৃষ্টিতে ভিজে যায় ঘরের বিছানাপত্র সহ সবকিছু। মেরামতের অভাবে ঘরের কাঠামোর এতটা জরাজীর্ণ অবস্থা এই বুঝি ঘরটি হুরমুড় করে ভেঙ্গে পড়বে। আর তাতেই আসতে পারে এই বৃদ্ধ দম্পতির জীবন অমানিষার অন্ধকার।

আফছার আলী বলেন, স্ত্রী, ৩ ছেলে ও ৩ মেয়েকে নিয়ে ৮ সদস্যের পরিবার ছিল। আমার বাড়িভিটার ১১ শতাংশ জমি ছাড়া আর কোন জমিজমা নাই। দিনমজুরি করে পরিবারের সকলের খরচ জোগাতাম। দিনমজুরি করে যা আয় রোজগার হতো তা থেকে কিছু জমিয়ে পাড়াপ্রতিবেশি ও আত্মীয় স্বজনদের সহযোগিতায় ৩ মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। বড় ছেলে বিয়ে করে বউ বাচ্চা নিয়ে অন্যত্র চলে গেছে। মেজ ছেলেও বিয়ে করে আলাদা সংসার করছে। সেও দিনমজুরি করে খুব কষ্টে দিন যাপন করছে। আর ছোট ছেলে কয়েকদিন আগে কাজের জন্য ঢাকায় পাড়ি জমিয়েছে। এখন আমরা এই দুই মানুষ এই ভাঙ্গা ঘরে বসবাস করছি। আমার এখন বয়স হয়েছে আগের মত কামকাজ করতে পারি না। বয়স্ক ভাতার কিছু টাকা পাই তা দিয়ে খেয়ে না খেয়ে কোন রকমে দিন কাটছে। টাকার অভাবে ঘরটা মেরামত করতে পারছি না। ঘরের চাল, বেড়া খুলে খুলে পড়ে যাচ্ছে। এই বর্ষায় আমরা বৃদ্ধ দুই মানুষ থাকবো কোথায় বলেই চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে যান আফছার আলী।

আফছার আলীর স্ত্রী আছিয়া বেগম বলেন, বৃদ্ধ বয়সে ভাঙ্গা ঘরে থাকতে আমাদের খুব কষ্ট হচ্ছে। রাতে একটু বৃষ্টি হলেই বিছানাপত্র গুটিয়ে বসে রাত কাটাতে হয়। সাড়া ঘর বৃষ্টির পানিতে ভিজে যায়। ঘরের বেড়া ভেঙ্গে গেছে। ভাঙ্গা বেড়ায় প্রায়ই কুকুর বেড়াল ঘরে ঢোকে। একটু বাতাস হলেই ঘরের চাল দুলতে থাকে। আমরা সারাক্ষণ ঘরের নিচে চাপা পড়ার ভয়ে থাকি। আমরা শেষ বয়সে নিরাপদ একটা মাথা গোঁজার ঠাঁই চাই।

স্থানীয় আব্দুল কাদের বলেন, আফছার আলী ও তার স্ত্রী বর্তমানে চরম ভোগান্তির শিকার। তার বয়স হয়েছে। কামকাজ করতে পারেনা। বেশ কিছুদিন ধরে তার নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা। সে কিভাবে ঘর মেরামত করবে। ছেলেরাও বাবা-মার সহযোগিতা করতে অপারগ। এখন এই বৃদ্ধ অসহায় আফছার আলীর বসতঘরটি মেরামতের জন্য জনপ্রতিনিধি ও বিত্তবানদের সহযোগিতার কোন বিকল্প নাই।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ