• রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ০১:৩১ পূর্বাহ্ন

লক্ষ্মীছড়িতে পিতার জীবদ্দশায় বেচা সম্পত্তি সন্তানের অস্বীকার! ভোগ-দখলে থাকা ক্রেতারা হতবাক

আব্দুল মান্নান, স্টাফ রিপোর্টার (খাগড়াছড়ি) / ৭২৪ জন পড়েছেন
প্রকাশিত : বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

আব্দুল মান্নান, স্টাফ রিপোর্টার (খাগড়াছড়ি)

খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার ২১৭ নম্বর জারুলছড়ি মৌজার ৬০ নম্বর হোল্ডিংয়ের ৫ একর ৩য় শ্রেণীর টিলা ভূমির মালিক আবদুর রহিম। উক্ত ভূমির ২নম্বর চৌহদ্দির
০.৫০ শতক ভূমির অবস্থান মঘাইছড়ি বাজার। এখানেই তিনি স্ত্রী, ৩ পুত্র ও ৩ কন্যাকে নিয়ে বসবাস করছেন। তিনি উপজেলার দুল্যাতলী ইউনিয়নের ৫নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত সাবেক মেম্বার ছিলেন। জীবদ্দশায় তিনি সংসারের ভরণপোষণে বসতবাড়ির ০.৫০ শতক জায়গার মধ্যে চৌহদ্দিমূলে ইতোপূর্বে ৩/৪ জন বিক্রেতার কাছে প্রায়. ৭০ শতক জায়গা আঞ্চলিক দলিলমূলে বিক্রি করেছেন! যদিও কাউকেই বিক্রিত সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করে দেননি! এখনও বসতঘরসহ সন্তানদের দখলে রয়েছেন অন্তত ০ ১৫ শতক জায়গা! গত ২৩ সালের ১০ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর আগে ২০০৪,২০০৭ ও ২০১৩ সালে বিক্রিত সম্পত্তিতে দোকানপাট, ঘরবাড়ি বানিয়ে ব্যবসা ও বসবাস করছেন ক্রেতারা। সম্প্রতি ভূমি ক্রেতাদের একজন এস.এম জাহাঙ্গীর আলম তার ক্রয়কৃত ও দখলে থাকা ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ( সারের ডিলার) সংস্কার করতে গেলে তাতে বাঁধা দেন প্রয়াতের মেঝ সন্তান মো. ইমাম হোসেন খোকা ও পরিবারের সদস্যেরা! তাদের দাবী গত দেড় যুগ ধরে পৈত্রিক সম্পত্তি জবরদখল করে ব্যবসা করছেন এস.এম জাহাঙ্গীর আলমসহ অন্যরা!

বিষয়টি মুহূর্তের মধ্যে জনপদে আলোচিত হয়ে উঠে! ফলে বর্তমান ও সাবেক স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ পর্যায়ে একাধিক বার সালিসি বৈঠক বসে! এতে সাক্ষ্য প্রমানে সাবেক মেম্বার মো. আবদুর রহিম জীবদ্দশায় এসব সম্পত্তি বিক্রি করেন এবং ক্রেতাদের দখল বুঝিয়ে দেওয়ার সত্যতা মিললেও প্রয়াতের সন্তান মো. ইমাম হোসেন খোকা এবং স্ত্রী বাছিরুন্নেছা(৬৫) এক সূরে অস্বীকার করে এসব জবরদখল করা হয়েছে বলে দাবী করেন!

এ প্রসঙ্গে উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ও সাবেক ইউনিয়ন ও উপজেলা চেয়ারম্যান এবং বর্তমান জেলা পরিষদ সদস্য রেম্রাচাই চৌধুরী বলেন, সাবেক মেম্বার মো. আবদুর রহিম জীবদ্দশায় তার বসতবাড়ির এসব জায়গা সংসারের ভরণপোষণে ধাপে ধাপে বিক্রি করেন এবং দখল হস্তান্তর করেন। ক্রেতাদের একজন এস.এম জাহাঙ্গীর আলম। তিনি তার ক্রয়কৃত জায়গায় দোকান তৈরি করে দেড় যুগ ধরে সরকারি সার বিক্রি করে আসছেন। একজন সৎ সাবেক জনপ্রতিনিধি’র( মো. আবদুর রহিম) মৃত্যুর পর সন্তানেরা কি করে তা অস্বীকার করেন তা আমার বা এলাকাবাসীর বোধগম্য নয়! এটি মিথ্যা ও সন্তানদের ধোঁকাবাজি ছাড়া কিছুই নয়।

প্রয়াত মেম্বার মো. আবদুর রহিমের কাছ থেকে দুই দাগে ০.৫০ শতক জায়গা কিনে ভোগ-দখলে থাকা মো. জামাল উদ্দিন বলেন, আমি ২০০৪ সালে জায়গা কিনে বসতবাড়ি বানিয়ে বসবাস করছি। কবুলিয়তের ২নম্বর চৌহদ্দিতে থাকা ০.৫০ শতক জায়গা দুই বারে আমার কাছে বিক্রি করার পরও দখলীয় চৌহদ্দির ভিতরে থাকা আরও জায়গা তিনি বিভিন্ন জনের কাছে বিক্রি করে গেছেন এবং এখনও কিছু জায়গায় সন্তানেরা বসবাস করছেন। এখন বিক্রিত সম্পত্তি অস্বীকার করার নাটক হাস্যকর! এতে আমরা ক্রেতা হিসেবে অবাক! এমন জঘন্য প্রতারণার বিচার চাই।

এলাকার ৪ বারের নির্বাচিত মহিলা মেম্বার কাজল আক্তার জানান, মো. আবদুর রহিম একজন ভালো মানুষ ও নির্বাচিত মেম্বার ছিলেন। তিনি জীবদ্দশায় ৩/৪ জনের কাছে সজ্ঞানে জায়গা বিক্রি করে গেছেন। তার মৃত্যুর পর এবং উপজেলার প্রধান সড়ক ঘেঁষা জায়গার মূল্যবৃদ্ধিতে প্রয়াতের ছেলেদের লোভ জেগেছে! না হলে পিতার বিক্রিত ভূমি সন্তানেরা কিভাবে অস্বীকার করেন?

এদিকে এস.এম জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি জায়গার মালিক মো. আবদুর রহিমের জীবদ্দশায় ২০০৭ সালে ২৯২৫ বর্গফুট এবং ২০১৩ সালে দোকান প্লট ক্রয় করে ভোগদখলে সারের ডিলারশিপ নিয়ে ব্যবসা করছি এবং দ্বিতীয় দফায় ৪৫৪.৫২ বর্গফুট কেনা জায়গায় আওয়ামীলীগের দলীয় কার্যালয় হিসেবে ভাড়া দিয়েছি। বিক্রেতার মৃত্যুর পর এলাকার কয়েকজন ভূমিদস্যুর কুপরামর্শে প্রয়াতের ছেলে ও স্ত্রী পুরো বিষয়টি অস্বীকার করছে! আমি দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর ধরে ক্রয়কৃত জায়গায় দোকান ঘর তৈরি করে কৃষকদের দোরগোড়ায় সার প্রাপ্তি নিশ্চিত করছি। এখন দোকান সংস্কারের উদ্যোগ নিতে গেলে বাঁধাপ্রাপ্ত হই! পরে স্থানীয় ও উপজেলা পর্যায়ে সালিসি বৈঠকে আমার জায়গা ক্রয়ের সত্যতা প্রমানিত হলেও প্রয়াতের সন্তান ও স্ত্রী তা অস্বীকার করছেন! এটি প্রয়াতের সাথে সন্তান ও স্ত্রীর প্রতারণা ও মুনাফেকি ছাড়া কিছুই নয়। ভূমির মূল্যবৃদ্ধিতে কতিপয় মানুষের কুপরামর্শে ছেলেরা জেনেশুনে এমন মিথ্যাচার করছে।

প্রয়াত মেম্বার মো. আবদুর রহিমের কনিষ্ঠ পুত্র মো. ইমাম হোসেন খোকা বলেন, আমার পিতা জীবদ্দশায় পরিবারের কারও কাছে একবিন্দু জায়গা বিক্রির কথা বলে যায়নি। এরা আমার বাবার সরলতা বা অজান্তে এসব জায়গার ভূয়া আঞ্চলিক দলিল সাজিয়ে জবরদখল করে আছে! আমি জবরদখল করা এসব জায়গার একাংশ উদ্ধারে আদালতের শরণাপন্ন হয়ে স্থিতাবস্থা (১৪৫ ধারা)চেয়েছি। আদালত এ বিষয়ে যে আদেশ দিবেন তাই হবে। পর্যায়ক্রমে অন্যদের দখলে থাকা জায়গার বিষয়টিও আমরা খতিয়ে দেখব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ