• রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন

দীঘিনালায় মা হয়েছেন মানসিক ভারসাম্যহীন নারী, বাবা হননি কেউ

এম মহাসিন মিয়া, স্টাফ রিপোর্টার (খাগড়াছড়ি)। / ১১৩৯ জন পড়েছেন
প্রকাশিত : বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

 

সেবা ও আন্তরিকতায় ঘাটতি নেই প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, নার্স, শিক্ষক ও সাংবাদিকদের।

এম মহাসিন মিয়া, দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি)।

সম্প্রতি খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার দীঘিনালা উপজেলায় এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারী কখনো উপজেলা পরিষদ এলাকায়, কখনো হাসপাতাল এলাকা, কখনো কবাখালী বা বোয়ালখালী বাজারে ঘুরাঘুরি করতো। কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন নারীটি হঠাৎ সন্তান সম্ভাবা দেখা যায়। বিষয়টি নার্সদের নজরে আসলে একাধিকবার দীঘিনালা হাসপাতাল কতৃপক্ষ ও নার্সরা সেচ্ছায় চিকিৎসা সেবা দিয়েছে নারীটিকে।

পরবর্তীতে হঠাৎ হাসপাতালের সামনে নারীটিকে অসুস্থ অবস্থায় দেখা গেলে হাসপাতালের কয়েকজন নার্স তাকে হাসপাতালে নিয়ে বিভিন্নরকম পরীক্ষা করে জানতে পারে নারীটি প্রসববেদনায় কাতরাচ্ছে। তাৎক্ষণিক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও নার্সরা মিলে কিছু টাকা তুলে দুজন নার্সসহ সরকারি এ্যাম্বুলেন্স দিয়ে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে ডাক্তার বিউটি চাকমার তত্বাবধানে নারীটি সিজারের মাধ্যমে একটি কন্যা সন্তান জন্ম দেয়।

দীঘিনালা হাসপাতালের কয়েকজন নার্স মিলে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহযোগিতাসহ নবজাতকের ও তার মায়ের জন্য পোষাক ও আনুষঙ্গিক জিনিস পত্রের ব্যবস্থা করেন। পরবর্তীতে দীঘিনালা হাসপাতালে এনে সপ্তাহ খানেক রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দিয়ে ছেড়ে দিলে শিক্ষক আবদুর রাজ্জাক ও তার স্ত্রী সিনিয়র স্টাফ নার্স চম্পা আক্তার সার্বিক দেখাশোনা করতে থাকেন। মানসিক ভারসাম্যহীন নারীটি খাবারও সেবা পেয়ে আশ্রয় নেয় উপজেলা পরিষদের সামনে শিক্ষক-নার্স দম্পতির বাসারপাশে গোলঘরে।

দীঘিনালা হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স চম্পা আক্তার ও তার স্বামী আবদুর রাজ্জাক শিশুসহ নারীটিকে দেখাশোনা ও খোঁজখবর রাখতে থাকেন। এরই মধ্যে গত ১০ ফেব্রুয়ারী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে “পাগলীটি মা হয়েছে বাবা হয়নি কেউ” নামে একটি ভিডিও পোস্ট করেন শিক্ষক আবদুর রাজ্জাক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত হলে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। তাৎক্ষণিক উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা পরিদর্শন করে নবজাতক ও তার মায়ের জন্য শীতবস্ত্র সহ অনান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দেয়া হয় এবং সার্বিক দেখাশোনা জন্য শিক্ষক-নার্স দম্পতিকে ধন্যবাদ জানান।

পরবর্তীতে মা ও নবজাতক শিশুটির কথা চিন্তা করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আবুল হাসনাত খান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কাশেম, থানা (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুল হক, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. তনয় তালুকদার, স্থানীয় সাংবাদিক ও জনপ্রতিনিধিরা সমন্বয় পূর্বক শিশুসহ নারীটিকে প্রশাসনের তত্বাবধানে আপতত একটি নিরাপদ স্থানে রাখা হয়।

২১ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) দুপুরে দেখা যায় থানা (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুল হক তার সঙ্গীয় ফোর্সদের নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে শিশুসহ নারীটিকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে থাকার ব্যবস্থা করেন। এবং চিকিৎসা সেবা সহ যেকোনো রকমের সহযোগিতা ও খোঁজখবরের বিষয়ে তৎপর রয়েছেন বলে জানান থানা (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুল হক।

এবং নারীটির পরিচয় ও ঠিকানা নিশ্চিত করে স্থানীয় হেডম্যান, ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় মেম্বারের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট একটি স্থানে নারীটির সাধারণ জীবনযাপন ও বসবাসের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় একটি বসতঘর করে দেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছেন বলে জানায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ