• মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০২৪, ১২:২০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
খাগড়াছড়িতে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের বিক্ষোভ মিছিল বেলকুচি উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত শিক্ষার্থীদের শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে নিজকে গড়ে তুলে স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে ভুমিকা রাথতে হবে -বাবুল দাস কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে লজ্জাবতী বানর অবমুক্ত কাপ্তাই বিএসপিআই শিক্ষার্থীদের ওপর ফের হামলা, ৪ জন আহত এম কে বাঘাবাড়ী ঘি কোম্পানির উৎপাদনকারী মো: কামাল উদ্দিনের ১ বছরের কারাদণ্ড কোটা সংস্কারের দাবিতে  কাপ্তাই বিএসপিআই এ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিল দিনেদুপুরে কৃষকের বাড়িতে হামলা লুটপাট রাঙামাটি সদর জোনের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ প্রদান আলীকদম সেনা জোন কর্তৃক মানবিক সহায়তা প্রদান পানছড়ি মাদ্রাসায় অব্যবস্থাপনা ও অবৈধ নিয়োগ বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন খাগড়াছড়িতে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষ্যে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে বিদ্যালয়ের টাকা আত্মসাৎ

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: / ৪৪৩ জন পড়েছেন
প্রকাশিত : শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১

মাটিরাঙ্গা গোমতি বি.কে উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ

অনিয়ম, দুর্ণীতি ও নিয়োগ বানিজ্যের আরেক নাম খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার গোমতি বি.কে উচ্চ বিদ্যালয়। প্রায় ২ একর জায়গা জুড়ে রাজকিয় ভঙ্গিমায় দাঁড়িয়ে থাকা বিদ্যালয়টি বাহির থেকে দেখতে দৃষ্টি নন্দন হলেও এর ভিতরে রয়েছে অসংখ্য দূর্ণীতি। মূলত অভিযোগগুলো স্কুলের প্রধান  শিক্ষক নুরুল হুদার বিরুদ্ধে। যিনি অত্র বিদ্যালয়ে যোগদানের পর বিগত ৩ বছরে দফায় দফায় অর্থ আত্মসাৎ, চেক জালিয়াতি সহ নিয়োগ বানিজ্যের মত গুরুতর অপরাধে জড়িয়েছেন নিজেকে।

২০২০ সালে নুরুল হুদা প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহনের এক বছর না পেরোতেই বিদ্যালয়ের ক্যাশ বইয়ে জমা হয়নি এমন বিভিন্ন খাতের তিন লক্ষ ছত্রিশ হাজার এক টাকা আত্মসাৎ করেন। বিদ্যালয়ের হিসাব নিরিক্ষণ কমিটির প্রতিবেদনে উঠে আসে এমন অভিযোগ। এতে বলা হয়, প্রধান শিক্ষক রশিদ বিহীন বিভিন্ন খাতের টাকা আদায় করে বিদ্যালয়ের ক্যাশ বইয়ে বা ব্যাংকে জমা করেননি। যাহা আত্মসাৎ বলিয়া প্রতীয়মান হয়।

সরকারি গেজেট অনুযায়ী কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক প্রতিষ্ঠানের কাজে ব্যায় করার জন্য হাতে নগদ ৫হাজার টাকা রাখতে পারে এর বেশি লেনদেনের জন্য ব্যাংক এবং রশিদ বই ব্যাবহার করতে হবে। কিন্তু প্রধান শিক্ষক নুরুল হুদা নিয়ম বহির্ভূত এসব কাজ করেছেন বীরদর্পে।

এদিকে ঘটনার পর প্রধান শিক্ষক নুরুল হুদার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নিতে গেছে তদন্ত কমিটি,  চতুর এ শিক্ষক নিজের অপরাধ স্বীকার করে এবং স্কুল কমিটির কাছে ক্ষমা ছেয়ে স্কুলের ফান্ডে তিন লক্ষ ছত্রিশ হাজার এক টাকা জমা করে দেন বলে জানান প্রধান শিক্ষক নুরুল হুদা।

গোমতি বি.কে উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি আল মামুন জানান, সম্প্রতি বিদ্যালয়ের সভাপতি আল মামুনের স্বাক্ষর জাল করো আবারো অবৈধ ভাবে দুই লক্ষ পনের হাজার টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করেছেন প্রধান শিক্ষক নুরুল হুদা। এছাড়াও নিজ ক্ষমতা বলে করোনা কালীন সময়ে ৬ লক্ষ টাকা বানিজ্যের মাধ্যমে বিদ্যলয়ে একজনকে নিয়োগ দিয়েছেন এমন অভিযোগও রয়েছে এ গুনধর প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

প্রধান শিক্ষক নুরুল হুদা অতীতে অর্থ আাত্মসাৎ কথা স্বীকার করে জানান, সেই টাকা তিনি বাধ্য হয়ে স্কুল ফান্ডে জমা করেছেন। সম্প্রতি তিনি চেক জালিয়াতি করেননি, তবে সভাপতির স্বাক্ষর করা অতীতের একটি বিল বাউসারের চেকে সভাপতি বাহিরে থাকায় আগষ্ট মাসে শিক্ষকদের বেতন তুলেছেন তিনি।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহতাসিন বিল্লাহ জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তর থেকে প্রধান শিক্ষক নুরুল হুদার বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতির বিষয়ে তদন্তে করে রিপোর্ট জমা দেয়ার জন্য আমাকে একটি চিঠি দেয়া হয়েছে। যা আগামী ৭ কার্য্য দিবসে জমা দিতে বলা হয়েছে।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অদা) মোঃ হেদায়েত উল্লাহ জানান, গোমতি বি.কে উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি আল মামুনের করা অভিযোগের ভিত্তিতে প্রধান শিক্ষক নুরুল হুদার চেক জালিয়াতির বিষয়ে তদন্ত চলছে। দ্রুত সময়ে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানালেন তিনি।

শিক্ষা কার্যালয়ের মত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থেকে দিনের পর দিন অনিয়ম, দূর্ণীতির মাধ্যমে দায়িত্বহীনতার পরিচয় দেয়ায় ক্ষুব্ধ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষ ও অভিভাবকবৃন্দ।।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ