শফিক ইসলাম, মহালছড়ি প্রতিনিধিঃ
খাগড়াছড়ির পাহাড়ি জনপদ মহালছড়িতে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে বৈসাবি ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৫ এর সমাপ্তি অনুষ্ঠান।১৫ ও ১৬ মে দুই দিন ব্যাপী চলমান টুর্নামেন্টের সফল সমাপ্তির পাশাপাশি স্থানীয় সংস্কৃতি ও ক্রীড়ার বিকাশ এবং জনগণের অংশগ্রহণে উৎসাহ দিতে আয়োজিত হচ্ছে দুই দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা।
এতিয্যবাহী বলি খেলা বাংলাদেশের সংস্কৃতির অন্যতম প্রাচীন ও জনপ্রিয় খেলা। স্থানীয় ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে আগত বলি খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে মাঠে গড়ে উঠে উত্তেজনাপূর্ণ প্রতিযোগিতা। দিন দিন ব্যাপী এ খেলার প্রথম দিন মহিলাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় এতে বিজয়ী হয় মারমা ও দ্বিতীয় দিনের খেলায় বিজয়ী হয় কুমিল্লা থেকে আগত সুমন বলি।
অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে দর্শনার্থীদের জন্য রাখা হয় আকর্ষণীয় লটারি ড্র এতে চমকপ্রদ পুরস্কার প্রদান সহ বৈসাবি ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মাঝে চ্যাম্পিয়ন, রানার আপ এবং বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও দুই দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান, নৃত্য, নাটকসহ নানা পরিবেশনায় করেন খাগড়াছড়ি ও আশেপাশের জেলার খ্যাতনামা শিল্পীবৃন্দ। অনুষ্ঠানে পাহাড়ি সংস্কৃতির পাশাপাশি বাংলা সংস্কৃতির অপূর্ব সমন্বয় ঘটেছে।
মহালছড়ির স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, প্রতিবছর বৈসাবি উপলক্ষে এমন আয়োজনের মাধ্যমে শুধু খেলাধুলা বা সংস্কৃতি নয়, বরং পারস্পরিক সম্প্রীতির বন্ধনও দৃঢ় হয়। এই আয়োজন তরুণ-তরুণীদের উৎসাহিত করে নিজেদের মেধা ও প্রতিভা প্রকাশে।
অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড় ও শিল্পীরাও জানিয়েছেন, এ ধরণের আয়োজনে তারা নিজেদের সংস্কৃতি তুলে ধরার সুযোগ পেয়ে গর্বিত। পাশাপাশি বলি খেলার মতো ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো সংরক্ষণ ও প্রচারে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আয়োজন কমিটির সাথে এ বিষয়ে কথা বললে জানা যায়, বৈসাবি শুধু একটি উৎসব নয়, এটি পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের আত্মপরিচয়, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের বহিঃপ্রকাশ। বৈসাবি উদযাপন কমিটির এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে পাহাড়ি জনপদের সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দুই দিনব্যাপী এই উৎসব মহালছড়িকে পরিণত করবে একটি প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক মিলনমেলায়।