আব্দুল মান্নান, স্টাফ রিপোর্টার খাগড়াছড়িঃ
করোনাকালীণ পরবর্তী খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার অফিসপাড়ায় মধ্যবয়সী এক ভারসাম্যহীন নারীর দেখা মেলে! এর পর পরিষদ চত্তরের একটি গোল ঘরে রাত্রীযাপন ও আশপাশের দুইটি দোকানদার এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেখবালে থেকেছেন ভারসাম্যহীন ওই নারী! সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) তাহমিনা আফরোজ ভুঁইয়া ওই নারীর অভিভাবক ও স্থায়ী ঠিকানার খোঁজে মিডিয়ার সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। ফলে ওই ভারসাম্যহীন নারীকে নিয়ে স্থানীয়"মানিকছড়ি বার্তা" নামক একটি পোর্টালে লাইফ করা হয়। এর পর খোঁজ মেলে এই নারীর ইতিবৃত্ত। ভারসাম্যহীন নারীর বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মো. শাহাদাৎ হোসাইন তার বোন হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে ইউএনও তাহমিনা আফরোজ ভুঁইয়া বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত হতে গিয়ে জানতে পারেন, ভারসাম্যহীন নারীর নাম শিরিন আক্তার। পিতা প্রয়াত সিরাজুল মাওলা, মাতা- প্রয়াত বিবি মরিয়ম বেগম,সাং- মাইটভাঙ্গা, ইউনিয়ন- শিবেরহাট, উপজেলা-সন্দ্বীপ, জেলা- চট্টগ্রাম।
২৭ জানুয়ারি সোমবার উপজেলা পরিষদের মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভা শেষে ভারসাম্যহীন নারীর বড় ভাইয়ের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে শিরিন আক্তার(৩৭)কে তুলে দেওয়া হয়। এ সময় গত প্রায় ৪ বছর ধরে অফিসপাড়ায় নিরাপদে থাকা এবং খাওয়া-দাওয়া দেওয়া দুইজন দোকানদার মো. ইউনুস ও সোহেল এবং তদারকিতে থাকা অফিস কর্মচারী উহ্লাচাই মারমা, মো. জসিম উদ্দীন, ধীমান চন্দ্র নাথ বক্তব্য রাখতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন! এছাড়া উপজেলা প্রকৌশলী( এলজিইডি) মো. মহব্বত আলী, ইউপি চেয়ারম্যান( ভারপ্রাপ্ত) মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, ইতোপূর্বে অনেক ইউএনও আসলেও কেউই এত আন্তরিক হয়ে একজন ভারসাম্যহীন নারীর যত্ন ও তার অভিভাবকের খোঁজ নিতে দেখা যায়নি! পরে ভারসাম্যহীন নারী শিরিন আক্তারের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মো. শাহাদাৎ হোসাইন জানান, তারা ২ভাই, ৩ বোনের মধ্যে শিরিন আক্তার সর্ব কনিষ্ট। ২০১৫ সালে একপুত্র সন্তানসহ শিরিন আক্তারকে ফেলে যায় স্বামী! এর পর শিরিন আক্তার মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে হারিয়ে যায়! তার কলেজপড়ুয়া একপুত্র সন্তান রয়েছে। তার মানসিক চিকিৎসার উদ্যোগ নেওয়া হবে। ভারসাম্যহীন শিরিন আক্তারকে নিরাপদ বসবাসের ব্যবস্থা করায় তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা( ইউএনও) তাহমিনা আফরোজ ভুঁইয়া ভারসাম্যহীন নারীকে অভিভাবকের কাছে হস্তান্তরকালে নতুন শাড়ি, বোরকা উপহার দেন। এ সময় ইউএনও বলেন, ভারসাম্যহীন হলেও সেও একজন মানুষ। তারও সুস্থভাবে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। দীর্ঘ সময় অফিসপাড়ায় থাকা এই নারীর বৈধ অভিভাবকের সন্ধান পেতে মিডিয়া পারসন্সদের সহযোগিতায় আজ তার( শিরিন আক্তার) বড় ভাইয়ের কাছে বুঝিয়ে দিতে পেরে আমার খুব ভালো লাগছে, আনন্দ লাগছে। তবে তার মানসিক চিকিৎসা প্রয়োজন।
সম্পাদকঃ এম. শাহীন আলম।। প্রকাশকঃ উম্মে হাবিবা
যোগাযোগ: ০১৬৪৭-৬২৭৫২৬/ ০১৮২৩-৯১৯০৯৫ whatsapp
parbattakantho@gmail.com
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
পার্বত্য কন্ঠ © ২০১৮-২০২৪ সংরক্ষিত