আল-আমিন রনি, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট:
কেউ রাস্তা-ফুটপাতের ময়লা পরিষ্কার করছেন। কেউ সড়কের মাঝখানে দাঁড়িয়ে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করছেন। তবে এরা কেউ পরিচ্ছন্নকর্মী বা ট্রাফিক পুলিশ নন। এরপরও শহরের সৌন্দর্য বাড়াতে এবং সড়কের শৃঙ্খলা নিশ্চিতে কাজ করছেন ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা। তাদের এ কার্যক্রমে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন সাধারণ লোকজন।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর সোমবার (৫ আগস্ট) দেশ ছেড়ে পালান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর ভেঙে পড়ে পুরো দেশের ট্রাফিক ব্যবস্থা। রাস্তায় দেখা যায়নি কোনো ট্রাফিক পুলিশ। এ অবস্থায় সড়কের শৃঙ্খলা নিশ্চিতে মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) সকাল থেকে মাঠে নামে শিক্ষর্থীরা।
স্বেচ্ছায় তারা ট্রাফিক পুলিশের ভূমিকার পাশাপাশি পরিচ্ছন্নকর্মীরও দায়িত্ব পালন করেন। নগরীর মোড়ে মোড়ে এ দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঘিরে কয়েক দিন ধরে নগরীতে উত্তেজনা আর পুলিশের সঙ্গে ছাত্র-জনতার পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে রাস্তায় পড়ে ছিল ইটের টুকরা, অর্ধপোড়া কাঠ-টায়ার। সিটি করপোরেশনে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের এসব পরিষ্কারের কাজে দেখা যায়নি। তাই যত্রতত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের খালি প্যাকেটসহ নানা ময়লা-আবর্জনা। ময়লা-আবর্জনায় ভরা চট্টগ্রাম নগরীর রাস্তা এবার পরিষ্কার করতে ঝাড়ু হাতে নেমেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যুক্ত শিক্ষার্থীরা।
সাধারণ শিক্ষার্থীরা দেশের এই পরিস্থিতিতে ১২-১৪ ঘন্টা পরিশ্রম করে দেশের ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে আনছে। সেদিক থেকে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরাও প্রত্যেকদিন ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে ও নগরীর ময়লা আবর্জনা পরিষ্কারে অবদান রাখছে।
নগরীর গাবতলী, দারুস সালাম, টেকনিক্যাল মোড়, মিরপুর সহ বিভিন্ন জায়গায় রাস্তায় দাঁড়িয়ে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির ছাত্ররা যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করছেন। তারা যেখানে-সেখানে যাত্রীবাহী গাড়ি দাঁড়াতে দিচ্ছে না। কারো রাস্তা পার হতে সমস্যা হলে গাড়ি থামিয়ে পারও করে দেন। মোটরসাইকেল আরোহীদের হেলমেট না থাকলে পরবর্তীতে হেলমেট পরার পরামর্শ দেন। কেউ কেউ ময়লা-আবর্জনা কুড়িয়ে কালো ও সাদা রঙের বড় আকারের কিছু বস্তায় ঢোকাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ ঝাড়ু দিয়ে রাস্তার ধুলাবালু পরিষ্কার করছেন। সবার হাতেই গ্লাভস, মুখে মাস্ক ছিল। সবাইা সড়ক ও তার আশপাশ পরিষ্কার করছেন। আবার কেউ কেউ দেয়ালে দেয়ালে বাজে লেখাগুলো রং দিয়ে মুছে দিচ্ছেন।
এ বিষয়ে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী নাফিজ শিকদার গণমাধ্যমকে জানান,
আমরা কখনো এমন বাংলাদেশ দেখিনি , যেটা দেশের ছাত্র সমাজ দেখিয়েছে। দেশের জনগনও খুবই সন্তুষ্ট। মনে হচ্ছে যেন তারা এরকম বাংলাদেশে চেয়েছে। আর ছাত্র সমাজ সেটা করেই দেখিয়েছে। প্রতিটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্টুডেন্টরা মিলে মিশে কাজ করছে। সেখানে পিছিয়ে নেই ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির ছাত্রছাত্রীরাও।
অপরদিকে শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন সবাই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাদেরকে প্রশংসায় ভাসান অনেকে।