সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ০১:৪২ অপরাহ্ন
বিজ্ঞপ্তিঃ

হ্যাঁ, এলাকা আমার, খবর আমার, পত্রিকা আমার। সাফল্যের ২ বছর শেষে ৩ তম বছরে দৈনিক পার্বত্য কন্ঠ। নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে সবচেয়ে বেশি স্থানীয় সংস্করন নিয়ে "দৈনিক পার্বত্য কন্ঠ" বিশ্লেষন আমাদের, সিদ্ধান্ত আপনার। দৈনিক পার্বত্য কন্ঠ পত্রিকায় শুন্য পদে সংবাদদাতা নিয়োগ চলছে। আপনার এলাকায় শুন্য পদ রয়েছে কিনা জানতে কল করুনঃ 01647627526 অথবা ইনবক্স করুন আমাদের পেইজে। ভিজিট করুনঃ parbattakantho.com দৈনিক পার্বত্য কন্ঠ। সত্য প্রকাশে সাহসী যোদ্ধা আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়বো

একই ব্যক্তি জন্ম তারিখ দুটি: গ্রহণ করছেন অবসর ও বেতন ভাতা

মোঃ মহাসিন মিয়া, নিজস্ব প্রতিনিধি (দীঘিনালা) 
  • প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২২
  • ১২৬ জন পড়েছেন

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় আবাসিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হেডকুক সেলিম তালুকদার তথ্য গোপন করে একই সাথে সরকারি দুই দপ্তর থেকে বেতন ভাতা ও অবসর ভাতা গ্রহন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত সেলিম তালুকদার উপজেলার কাঁঠালতলী আবাসিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হেডকুক হিসেবে বর্তমান কর্মরত। জানা যায়, আবাসিক বিদ্যালয়ে হেডকুক হিসেবে বেতন ভাতা ভোগ করার পাশাপাশি বর্ডার গার্ড (বিজিবি) থেকে অবসর গ্রহনের ভাতা ভোগ করছেন একই ব্যাংক একাউন্টে সমানতালে।

বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে গত বছর (সেপ্টেম্বর- ২০২১) সালে (iBASS++) অনলাইন পদ্ধতিতে বেতন ভাতার বিল দাখিল করলে সেলিম তালুকদারের নামের অপশনে পেনশনার বলে পদর্শিত হয়। এবং তখন থেকে তার বর্তমান চাকুরীর বেতন ভাতা বন্ধ রয়েছে। উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৩ সালে সেলিম তালুকদার (বিজিবিতে) যোগদান করে ২০০৬ সালে অবসরগ্রহণ করে নিয়মিত অবসর ভাতা গ্রহন করে আসছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে তরিগরি করে বিজিবির ১৭ রাইফেলস্ ব্যাটালিয়ন সদরদপ্তর সুনামগঞ্জে অবসর ভাতা গ্রহন করবেন না মর্মে আবেদন করেন। যা সে শিক্ষা অফিসে লিখিতভাবে স্বীকার করেছেন।

পরবর্তীতে জন্মতারিখ, বয়স, ঠিকানা ও জেলা সহ সকল তথ্য গোপন রেখে ২০০৮ সালের ডিসেম্বর মাসে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার ছোট মেরুংয়ের ঠিকানা ব্যবহার করে কাঁঠালতলী আবাসিক বিদ্যালয়ে হেডকুক হিসেবে যোগদান করে নিয়মিত বেতন ভাতা গ্রহন করে আসছেন। সেলিম তালুকদার রাঙামাটি জেলার ঠিকানা ব্যবহার করে (বিজিবিতে) চাকুরী করেছেন এবং খাগড়াছড়ি জেলার ঠিকানা ব্যবহার করে বর্তমানে হেডকুক হিসেবে কর্মরত আছেন। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসলে, একইসাথে এক চাকুরী থেকে অবসরগ্রহণ ও অন্য দপ্তরে চাকুরী কিভাবে করে তা জানার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর পত্র দিয়ে তদন্ত করে শিক্ষা অধিদপ্তরে রিপোর্ট পাঠানোর জন্য বলা হয়।

চিঠিতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (সাধারণ প্রশাসন) মোঃ নজরুল ইসলাম কর্তৃক ০৮.০৮.২২ তারিখে স্বাক্ষরিত পত্রে জানতে চাওয়া হয় অভিযুক্ত সেলিম তালুকদার (বিজিবি) পেনশন বই অনুযায়ী জন্মতারিখ তাঁর জানুয়ারী ১৯৭২ সাল। এবং জাতীয় পরিচয়পত্র ও বিদ্যালয়ের সনদ দেখিয়ে বর্তমান চাকরীতে যোগদানের জন্মতারিখ ২০.০৯.১৯৭৯। দুই জায়গায় তাঁর জন্মতারিখ দুই রকম এবং একটি সরকারী চাকুরী থেকে অবসরগ্রহণ করে আরেকটি সরকারী চাকুরীতে তথ্য গোপন করে আবেদন বা যোগদান করতে পারেন কিনা। দুই পদ থেকে আর্থিক সুবিধা ভোগ করতে পারেন কিনা জানা আবশ্যক। ও একই ব্যক্তির দুই জায়গায় দুই রকম জন্মতারিখ হওয়ার কারন জানতে চেয়ে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আবাসিক বিদ্যালয়ের এক কর্মচারী জানান, সেলিম তালুকদার চাকুরীতে যোগদান করার পর থেকে বিভিন্ন অনিয়ম ও বেপরোয়া আচরণ করে আসছে। এজন্য তাকে ২০১২ সালে বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মচারীদের অভিযোগের পেক্ষিতে তদন্তে সত্যতা পেয়ে কর্তৃপক্ষ এক বছর সাময়িক বরখাস্ত করে রাখেন। পরে অনিয়ম করবেন না মর্মে মুচলেকা দিয়ে আবার চাকুরীতে যোগদান করে সে আবার বেপরোয়া হয়ে ওঠে।

তবে এবিষয়ে ২০১৯ সালের চাকুরী বিধির প্রবিধানমালার সর্বশেষ সংশোধনী অনুযায়ী জানা যায়, চাকরী বিধির ৫১ ধারার বিধান অনুযায়ী কোন প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীকে অবসরগ্রহণের পর পূনরায় অন্যকোন কর্তৃপক্ষ বা কোন উপায়ে চাকুরীতে নিয়োগ করা যাইবে না। তবে রাষ্ট্রপতি চাইলে কোন অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীকে জনস্বার্থে পূনরায় নিয়োগ করিতে পারবেন।

সুচতুর সেলিম তালুকদার অনিয়ম ও আইনকে তোয়াক্কা না করে স্ব পদে বহাল থাকার জন্য জোর চেষ্টা তদবির চালিয়ে যাচ্ছে।

এবিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত সেলিম তালুকদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, একই সাথে অবসর ও বেতন ভাতা গ্রহন বেআইনি জেনে তিনি বিজিবি থেকে গৃহীত অবসর ভাতা ফেরৎ দিবেন মর্মে লিখিত আবেদন করেছেন। এখন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সুস্মিতা ত্রিপুরা বলেন, সেলিম তালুকদারের ঘটনার বিস্তারিত লিখিতভাবে জেলা শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে মন্ত্রনালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। এখন মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সাহাব উদ্দিন বলেন, একই কর্মচারী অবসর ও বেতন ভাতা গ্রহনের সুযোগ নেই। তাছাড়া আমি অফিসে নতুন যোগদান করেছি। যতটুকু জেনেছি সেলিম তালুকদারের বিষটি শিক্ষা অধিদপ্তর অবগত রয়েছেন। শিক্ষা অধিদপ্তরের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এম/এস

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
এই পোর্টালের কোনো খেলা বা ছবি ব্যাবহার দন্ডনীয় অপরাধ।
কারিগরি সহযোগিতায়: ইন্টাঃ আইটি বাজার
iitbazar.com